নোমোফোবিয়া রোগের কারণ বা স্মার্টফোন আসক্তি কি?

নোমোফোবিয়া
ছবিঃ নোমোফোবিয়া আক্রান্ত

যদিও স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, বা কম্পিউটার একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান হয়ে পরেছে, এই ডিভাইসগুলো দৈনন্দিন ব্যবহার কাজে,অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে পরেছে। কিন্তু এগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারই আমাদের আসক্ত করে তোলে।

কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক -

উদাহরণ-১ আপনি হয়ত পড়াশোনা করছেন কিংবা পেশাগত, ব্যবসায়িক অথবা ব্যাক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজে ব্যস্ত, এরই ফাঁকে অল্প কিছুক্ষণের জন্য স্মার্টফোন হাতে নিয়েছেন।এরপর আপনার অজান্তেই স্মার্টফোনে কেটে গেছে বেশ কিছু সময়। এমনটি হয়ত প্রায়ই ঘটেছে আপনার ক্ষেত্রে। 

উদাহরণ-২ আপনি কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন বা কোন কনসার্ট দেখতে গিয়েছেন। সেখানে আপনি ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সেগুলো সোসাল মিডিয়ায় আপলোড করার জন্য। 

উদাহরন-৩ আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ছবি শেয়ার করে লাইক গুনতে শুরু করে দেন। আবার অনেকেরই লাইক ঠিকঠাক না পেলে মাথা খারাপ হবার জোগাড় হয়!

স্মার্টফোনের প্রতি এইরকম মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘নোমোফোবিয়া’। অনেকেই এই সমস্যায় আক্রান্ত। 

স্মার্টফোনের প্রতি এমন মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা রকম বাধার সৃষ্টি করে । আমাদের কর্মদক্ষতা, সৃষ্টিশীলতা কমানোর পাশাপাশি সৃষ্টি করে নানা রকম দৈহিক ও মানসিক সমস্যার

স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারনে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, টেক্সটিং এবং মেসেজিং,ডেটিং অ্যাপস-এর প্রতি আসক্তি এমনভাবে বাড়তে থাকে যার ফলস্বরূপ ভার্চুয়াল, অনলাইন বন্ধুরা বাস্তব জীবনের সম্পর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

যেভাবে আমরা আসক্ত হয়ে পরি - আপনি প্রয়োজনীয় কোনো ভিডিও দেখার জন্য ইউটিউবে গিয়েছেন। তখন চোখে পরবে ভিডিওটির সাজেশনে আপনার পছন্দের কোন টপিকের ভিডিও দেখানো হচ্ছে। আপনি সেই ভিডিওটি চালু করলেন। এভাবে একের পর এক ভিডিও আসতে থাকবে। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনি নিজের অজান্তেই ভিডিও দেখেই পার করে দিলেন। আর এই পুরো সময়টাতে ইউটিউব আপনাকে বেশ কিছু বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করলো।

আবার ধরুন, আপনি কিছুক্ষণ আগেই কোন পন্য সম্পর্কে গুগলে সার্চ করেছেন। এরপর সেখান থেকে ফেইসবুকে লগ-ইন করলেন এবং হঠাৎ আপনি খেয়াল করবেন ফেইসবুক আপনাকে আপনার সার্চ করা পন্যটির ই-কমার্স বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে! আবার নিউজফিডে আপনার পছন্দের বিষয়বস্তুর উপর সাজানো কনটেন্ট প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে আপনি মজা ভরে সেগুলো দেখতে লাগলেন, কেটে গেল অনেকটা সময়।

ফোন ব্যবহারকারীরা নিজের অজান্তেই জরিয়ে পরে আসক্তিতে। এর পেছনে ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। আপনাকে যত বেশি সময় স্মার্টফোনে ধরে রাখা যাবে অর্থাৎ আপনি যত বেশি সময় সোশ্যাল সাইটগুলোতে ব্যয় করবেন, আপনাকে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তাদের অর্থ উপার্জন তত বাড়বে।

নির্মাতারা ঠিকই তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করবে অপরদিকে ব্যবহারকারীরা নিজের অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্মার্টফোনে আসক্তির ফলে মানুষের আবেগ কমে যায়, রাগ ও হতাশা বৃদ্ধি পায়, অনিদ্রার সৃষ্টি হয়। মা-বাবার অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার পারিবারিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটে । শিশুদের ক্ষেত্রে এই আসক্তির প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ‘ট্যাবলেট ফর স্কুল’ জানিয়েছে স্মার্ট ডিভাইস আসক্তিতে ঘুম কমছে শিশুদের। স্মার্টফোন আসক্তি তাদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করে। এছাড়া এই আসক্তি মানুষের সামজিক ও পারিবারিক বন্ধন হালকা করে দিচ্ছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url