আমাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারন ও প্রতিকার - Banglablog360
![]() |
| ছবি - সংগৃহীত |
চর্বি জমার কারনে মানুষের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে,ডায়াবেটিস,মেদভুঁড়ি দেখা দেয়, ও হৃদরোগের ঝুঁকি অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়। যার ফলে কায়িক শ্রম সম্পাদনের যোগ্যতা কমে যায়। কায়িক শ্রম না করার ফলে ব্যক্তি আরও বেশি মোটাসোটা হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে মানুষ এক ধরনের দুষ্টচক্রে পড়ে আরও বেশি মোটা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পতিত হয়।
ভরপেট খাওয়ার পরে আলস্য এসে ভর করে। আর খাওয়ার পরেই যারা ভাতঘুমে যান, তাদের পেটে চর্বি জমার প্রবণতা থাকে সব থেকে বেশি। দীর্ঘক্ষণ বসে যারা কাজ করেন, তাদের পেটেও ধীরে ধীরে চর্বি জমে যায়। বাড়তি চর্বি শুধু সৌন্দর্যকেই ম্লান করে দেয় না, সেই সঙ্গে নানা রোগও ডেকে আনে।
শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলে হাত, মুখ, পেট এবং উরু এই যায়গা গুলোতেই বেশি জমে। বাড়তি চর্বি জমে যাওয়ার আগেই সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আর চর্বি যদি জমেই যায়, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়ামে সেটিকে অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে। কোন কারণে চর্বি জমছে, এই কারণটিকে চিহ্নিত করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।
পেটে চর্বি জমার কারণ-
১. শর্করাসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে পেটে দ্রুত চর্বি জমে। বিরিয়ানি, ভাত, পোলাও, লুচি, মিষ্টি, পরোটা, কোমল পানীয় ইত্যাদি খাওয়ায় বিধিনিষেধ মানতে হবে।
২. খাওয়ার পরেই যারা দ্রুতই ঘুমিয়ে যায়, তাদের ঠিকমত খাবার পরিপাক হয় না। সঞ্চিত শক্তি ব্যয় হয় না। ফলে এটিও চর্বি জমার খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
৩. যাদের সারাদিই চেয়ার-টেবিলেই বসে কাজ করতে হয় এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় না, তাদের পেটেও দ্রুত চর্বি জমে।
৪. যারা মাখন, পনির, ঘিয়ের মতো চর্বিযুক্ত খাবারে অভ্যস্ত এবং ফাস্টফুডের ভক্ত, তাদের পেটেও সহজেই চর্বি জমে।
পেটে চর্বির জন্য শরীরে যেসব রোগ দেখা দেয়-
১. পেটে বাড়তি চর্বি রোগব্যাধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়তি চর্বির ফলে অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্তি আসে এবং পরিশ্রমে অনাগ্রহ জন্মে। ফলে চর্বি জমার হারটাও বাড়তে থাকে ।
২. পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে লিভারের বিভিন্ন রোগসহ লিভারের চারদিকে চর্বি জমে যায় এর ফলে রোগী ডায়াবেটিস ও হার্নিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন ।
৩. পেটে চর্বি জমার কারনে নারীর হরমোনজনিত জটিলতাসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।
চর্বি কমানোর জন্য করণীয় -
১. অতিরিক্ত খাবার গ্রহন বন্ধ করুন একবারে বেশি না খেয়ে বারে বারে অল্প অল্প করে খাবার গ্রহন করুন।
২. শর্করাজাতীয় খাবার অল্প এবং শাকসবজি বেশি খেয়ে পেট ভরাতে হবে । সঙ্গে যেকোন টক ফল খেতে পারেন।
৩. পেয়ারা, বরই, আমড়া, শসা— এসব ফল খোসাসহ খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারেন।
৪. মাংস খাওয়া বাদ দেওয়ায় ভালো যদি খেতে মন চায় তাহলে চর্বির অংশ বাদ দিয়ে খেতে হবে। ঝোল কিংবা আলু খাওয়া থেকে একদমই বিরত থাকুন।
৫. ফাস্টফুড বা যেকোনো ধরনের তেলে ভাজা খাবার একদমই বর্জন করতে হবে।
৬. প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে। শরীরের মেটাবলিজম ক্ষমতা বাড়াতে পানি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে যা চর্বি জমতে বাধা দেবে।
৭. খাবার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করাও প্রয়োজন।
৮. নিয়মিত জিমে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে ফলাফলটা খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে । জিমে যাওয়া সম্ভব না হলে সাইকেল চালানো, দড়িলাফ,সাঁতার, জোরে হাঁটা — এগুলো পেটের চর্বি ঝরানোর জন্য খুবই কার্যকরী ব্যায়াম।
৯. এছাড়া বাসায় বা অফিসে লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে উপরে ওঠা, কিংবা ফ্লাইওভারের নিচ থেকে জোরে হেঁটে ওপরের দিকে ওঠার অভ্যাস গড়লেও চর্বি ঝরবে দ্রুত।
