খুব অদ্ভুত একটা সময় এই বাইশ-আঠাশ বছর বয়সটা

জন্মের পর থেকেই মানুষ প্রতিনিয়ত নানা রকম পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মিশতে থাকে। এই বিচিত্র পৃথিবীর রং ও বিচিত্র। এই রূপবৈচিত্রের মাঝে মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় তার যৌবন কাল অর্থাৎ ২২-২৮ বছর এই সময়টা। ২২-২৮ বছর এই বয়সটা খুব অদ্ভুত একটা সময়। 

বাইশ-আঠাশ

এই সময়ে বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই দেখবেন বিয়ে করে সংসার চালাচ্ছে, কেউ জীবন নিয়ে খুব স্ট্রাগল করছে, কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে কেউ হঠাৎ করে এই কম বয়সে সফলতার দেখা পাচ্ছে আবার কেউ কিছুই করতে না পেরে খুব হতাশ হয়ে যাচ্ছে। 

কোন বন্ধু এই বয়সেই পুরো সংসার চালাচ্ছে, আবার কেউ খুব আনন্দ ফুর্তিতে জীবন কাটাচ্ছে। যেই ছেলেটাকে ছোট থেকেই উশৃংখল মনে হত সেও এই বয়সে খুব দায়িত্বশীল হয়ে গেছে । 

আবার যেই ছেলেটাকে ছোট থেকে খুব মেধাবী মনে হত, স্কুল-কলেজ সবজায়গায় সেরাদের কাতারে থাকত তাদের অনেকেই ভীরের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে । 

আবার যাকে স্কুল বা মাদ্রাসার লাইফে কোন দামই দিতেন না। সে এখন খুব ভালো পজিশনে আছে। অল্পতে অনেক ভালো কিছু করে ফেলেছে। অথচ তার থেকে আপনার মেধা ও যোগ্যতা কোন অংশেই কম ছিল না। 

খুব অদ্ভুত একটা সময় এই বাইশ-আঠাশ বছর বয়সটা তাইনা !! 

হয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে দেখেছেন বা দেখবেন - সিআর হওয়া নিয়ে, রেজাল্ট ভালো করা নিয়ে, ডিপার্টমেন্টাল বা ভার্সিটি প্রোগ্রাম আয়োজনের নেতৃত্ব নিয়ে, টিচারদের সাথে লবিং করা নিয়ে, রাজনীতি, আড্ডা, গার্লফ্রেন্ড নিয়ে - নানারকম বিচিত্র সকল কারণে ক্লাসমেটদের মধ্যে ঝগড়া - হাতাহাতি এমনকি গ্যাং বেঁধে মারামারি হয়েছে। 

কোন এক শীত বা গ্রীষ্মের দুপুরে অনেকটা সময় নিয়ে আপনার ইউনিভার্সিটি লাইফের সেই ক্লাসমেটদের প্রোফাইলগুলোতে ঢুঁ মেরে দেখবেন, ওদের কোন কমেন্ট সেকশানে এখন আর কোন ইউনিভার্সিটি লাইফের ক্লাসমেটদের কোন ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্য নেই। ইনফ্যাক্ট কোন কমেন্টই নেই। কারণ জীবন বদলে গেছে। চলার পথ বদলে গেছে। কারো সাথে আর কারো রেগুলার যোগাযোগ নেই। অথচ এইতো, মাত্র ৪-৫ বছর আগেই শেষ হল ভার্সিটি জীবন। 

তো, যারা যারা এখনো স্টুডেন্ট আছেন এবং এই লেখাটি পড়ছেন, তারা আগামী কালকেই ভার্সিটি যাবার পরেই নিজেদের বন্ধু ক্লাসমেট এবং শত্রু ক্লাসমেট - দুই গ্রুপের সাথেই দেখা করে কোলাকুলি করে নিজেদের সব সমস্যার সমাধান করে নিবেন । কারণ, এই ছেলেটা বা এই মেয়েটার সাথে আপনার আসলেই চার বছর পর আর সেভাবে সম্পর্ক থাকবে না। জীবনের প্রায়োরিটি বদলায়ে যাবে। 

আর কালকে থেকে ঝগড়াঝাটি, স্বার্থপরের মত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং অন্যের সাথে গুটিবাজি বা পেচগি লাগানো কাজ কারবার করাও ছেড়ে দিবেন। যাতে করে ইউনিভার্সিটি লাইফ শেষ হবার অনেক বছর পরেও আপনার ক্লাসমেট যখন আপনার কথা স্মরণ করবে বা কোন আড্ডায় আপনার স্মৃতি মনে পড়বে তখন যেন সে সোজাসাপটা একটা কথায় বলে যে আপনি একজন ভালো বন্ধু ও ভালো মানুষ ছিলেন। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url